আমাদের সম্পর্কে (About Us)
দূরদর্শী ভাবনা ও শুরুর গল্প
বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমি শুধুমাত্র ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করি। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। লেখা-পড়া শিখে বড় অফিসার হবো এমন কোন ইচ্ছা আমার কোন দিন ও ছিল না। ছোট বেলা হতে যে ইচ্ছাটা আমাদের মনের মধ্যে ছিল সেটা হলো, আমি আমার গ্র্যান্ড-ফাদারের মত ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমি দেশের অর্থ-ব্যবস্থা নিয়ে ও চিন্তা-ভাবনা করি। কেন দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি পায় আবার দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির হাত থেকে পরিত্রাণ এর উপায় কি। ইসলামী অর্থনীতি একজন গবেষক হিসেবে আমি আপনাদের এই নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, ইসলামী অর্থ-ব্যবস্থাই আগামী দিনের বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে। বিষয়টির উপর আমি একটি বই প্রকাশ করবো এ বছরের শেষের দিকে।
আমাদের লক্ষ্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট (Our Mission & Core Values)
বাংলাদেশের মত এত বেশি ভেজাল পৃথিবীর অন্য কোন দেশের খাদ্য-দব্য মিশানো হয় কিনা তা আমাদের জানা নেই। ভেজাল খাবার মানব শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যা থেকে মানুষের শরীরে ক্যান্সার পর্যন্ত সৃষ্টি হতে পারে।
দেশে সৎ ব্যবসায়ীর খুব অভাব। বেশীরভাগ ব্যবসায়ীরাই ব্যবসাটাকে সেবা মনে না করে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে মনে করছে। আবার অনেক ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা বিজ্ঞাপনের জন্য খরচ করছে কিন্তু জনগণকে দামের ব্যাপারে বিন্দু মাত্র ছাড় দিচ্ছে না। আবার অনেক ক্রেতারা মনে করেন যে দ্রব্যের দাম যত বেশি সেই দ্রব্যের গনগত মান ততো ভালো। আবার এক ধরণের ব্যবসায়ী আছেন তারা চায় সমাজের এলিড শ্রেনী র লোকেরা শুধু মাত্র তার কাষ্টমার হবে।
সৎ ব্যবসায়ীরা বেহেস্তে নবী রাসুলদের সংগে থাকবে সেই প্রত্যাশা নিয়ে আমারা শুরু করেছি।
বাংলাদেশের কোন ব্যবসায়ীরা সত্য কথা বলতে চাই না। শৈশব কাল থেকে আমি সামাজতান্তিক মানুসিকতার মানুষ ।সামাজিক ব্যবসায় বা ইসলামী অর্থনীতির ব্যবসায় গোপন বলতে কোন কিছু থাকবে না। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সেখানে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন। আমার একার পক্ষে সারা দেশে ভেজাল মুক্ত খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়,তাই আমি সমাজের সর্বোস্তরের মানুষের সহযোগিতা চাই।
যে ব্যবসায় কেহ ঠকে না তার নাম হলো সামাজিক ব্যবসা (Transparency & Calculations)
সামাজিক ব্যবসায় গোপনীয়তার কিছু নেই। আমাদের সরিষার তেলের উৎপাদন ও খরচের প্রকৃত হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
সরিষার বাজার দর: প্রতি মন ৩৭০০/- (তিন হাজার সাত শত) টাকা মাত্র।
খৈল বিক্রি: প্রতি মন সরিষায় খৈল হয় ৯০০/- (নয় শত) টাকা।
নেট সরিষার দাম: ২৮০০/- (দুই হাজার আট শত) টাকা।
তেল উৎপাদন: এক মন সরিষাতে তৈল হয় ১৫ লিটার।
বিক্রয় মূল্য: প্রতি লিটার আমি যদি ২৭০/- (দুই শত সত্তর) টাকায় বিক্রি করি তাহলে পাব ৪০৫০/- (চার হাজার পঞ্চাশ) টাকা।
হাতে থাকে: প্রতি মনে ১২৫০/- (এক হাজার দুই শত পঞ্চাশ) টাকা।
উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় (per mon):
| ব্যয়ের খাত | টাকার পরিমাণ |
| বোতল খরচ | ১৫০/- |
| প্যাকিং খরচ | ৮০/- |
| বিদ্যুৎ খরচ | ৭০/- |
| লেবার খরচ | ১০০/- |
| মূলধন খরচ | ১০০/- |
| ব্যবস্থাপনা ব্যয় | ১০০/- |
| বিবিধ ব্যয় | ১৫০/- |
| মোট ব্যয় | ৭৫০/- |
সর্বশেষ মুনাফা: প্রতি মনে আমাদের মুনাফা হবে মাত্র ৫০০/- (পাঁচশত ) টাকা।
এর চেয়ে বেশি দাম যারা নিচ্ছেন তারা কি কাজটা ঠিক করছেন ?
## সচেতনতা: বেশি ঝাঁজ মানেই বেশি খাঁটি কথাটি সব সময় সঠিক নয়
বছরের শুরুতেই অর্থাৎ মার্চ/এপ্রিল মাসে নতুন সরিষার তেল যেমন ঝাঁজালো হবে, ঠিক অনুরূপভাবে বছরের শেষে ডিসেম্বর/জানুয়ারি মাসে পুরাতন সরিষার তেলের ঝাঁজ অনেকটা কমে যাবে এটাই স্বাভাবিক।
অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা কেমিক্যাল ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে ঝাঁজ বৃদ্ধি করে জনগণকে প্রতারিত করছেন। কৃত্রিম এই কেমিক্যাল থেকে মানুষের শরীরে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। কাজেই ঝাঁজ বেশি মানেই বেশি খাঁটি এটি ভাবার কোন যুক্তি নেই।
## সিদ্ধান্ত আপনার (The Choice Is Yours)
যে পণ্যের দাম যত বেশি সেই পণ্যের গুণগত মান ততো বেশি ভালো — জনগণকে এই ধরনের মানুষিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিষয়টি জানার জন্য/বুঝার জন্য বর্তমানে প্রতি মন সরিষার দাম কত, প্রতি মনে কত লিটার তেল ও খৈল পাওয়া যায় সব বিস্তারিতভাবে তুলে করা হবে । এখন সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি চটকদার বিজ্ঞাপন বিশ্বাস করবেন না আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন।
ইনসাফ-এর উপর ভরসা রাখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।